অথ্ শ্রীশ্রীকাল্কি শ্রীমদ ভগবৎ গীতা দ্বিতীয় অধ্যায় 'শ্রীশ্রীকাল্কি সাংখ্যযোগ' নামঃ পঞ্চম শ্লোকঃ পাঠম্ শ্রীতাপস উবাচ।। ... --------------------- স্মৃতিঃ ন হত্বা হি পুরাতনীম্ তাম্ শ্রেয়ঃ ভোক্তুম্ জড়ম্ অপি ইহ লোকে। হত্বা মোহ-ভাবান্ তু সংস্কারান্ ইহ এর ভুজীয ভোগান্ রুধির-প্রদিগ্ধান্।। _____ স্মৃতিঃ ন হত্বা হি পুরাতনীম্ তাম্ শ্রেয়ঃ ভোক্তুম্ জড়ম্ অপি ইহ লোকে। হত্বা মোহ-ভাবান্ তু সংস্কারান্ ইহ এর ভুজীয ভোগান্ রুধির-প্রদিগ্ধান্।। _____ স্মৃতিঃ ন হত্বা হি পুরাতনীম্ তাম্ শ্রেয়ঃ ভোক্তুম্ জড়ম্ অপি ইহ লোকে। হত্বা মোহ-ভাবান্ তু সংস্কারান্ ইহ এর ভুজীয ভোগান্ রুধির-প্রদিগ্ধান্।। _____ ========== বঙ্গানুবাদ: এখানে, সুমতিনন্দ সাধক তাপস বললেন— হে পরমগুরু, হে প্রভূ! আমার অন্তরের বহুদিনের লালিত পুরাতন জাগতিক স্মৃতি ও লৌকিক নিয়মগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস না করে, এই সংসারে একজন সাধারণ জড় বা অজ্ঞ মানুষের মতো কোনোমতে জীবন কাটিয়ে দেওয়াও অনেক শ্রেয়। কারণ, আমার অতি প্রিয় মোহভাবাপন্ন সামাজিক সংস্কার ও বন্ধনগুলোকে যদি আমি কুঠারাঘাত করি, তবে সেই পরমাত্মিক বিপ্লবের পর যে ফল আমি লাভ করব, তা আমার চেনা জগতের ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে বেদনা ও রক্তে রঞ্জিত বলেই মনে হবে। গীতার দর্শনের মেলবন্ধন: গীতার মূল শ্লোকে অর্জুন ক্ষত্রিয় কর্তব্য এড়াতে বাহ্যিক ‘ভিক্ষাবৃত্তি’ বা ছদ্ম-ত্যাগের আশ্রয় নিচ্ছিলেন। আর শ্রীশ্রীকাল্কি মহাঋষি মালোবাবার দর্শনে এটি হলো ‘সাধকের মনের সেই সূক্ষ্ম জড়তা, যা পুরাতন সংস্কার ও সামাজিক স্মৃতির মায়ায় আবদ্ধ হয়ে আধ্যাত্মিক বিপ্লব ঘটাতে ভয় পায়’। শ্রীশ্রীকাল্কি মহাঋষি মালোবাবার আত্ম্যাধীক ব্রহ্মজ্ঞান আমাদের শিক্ষা দেয় যে, কলিযুগ থেকে সত্যযুগে প্রবেশ করতে হলে মনের ভেতরের পুরাতন জড় স্মৃতি ও লৌকিক অন্ধ সংস্কারের 'পুরাতনীং স্মৃতিং' মোহ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলতে হবে। সাধক যখন ত্যাগের এই পরম যজ্ঞকে ‘কঠিন বা যন্ত্রণাদায়ক’ মনে করে পিছিয়ে যেতে চায়, তখনই সে অর্জুনের মতো ছদ্ম-বৈরাগ্যের ফাঁদে পড়ে। মহর্ষির এই দর্শন সাধককে বোঝায় যে, পুরাতন মায়িক খোলস ভাঙার বেদনাটুকু সহ্য না করলে কখনোই চিদানন্দময় সত্যযুগের পরম আলোক লাভ করা যায় না। এই শ্লোকটি সাধকের ভেতরের শেষ মানসিক জড়তাকে গুরুর চরণে উন্মোচিত করার এক পরম মনস্তাত্ত্বিক দর্পণ। --- এই কথাগুলি বললেন বক্তা শান্ত সাধক শ্রীতাপস মালোবাবাকে । ইহাই হইলো দ্বিতীয় অধ্যায়, পঞ্চম শ্লোকের মূল ভাব। সাবর্ণী মনুষ্যধর্ম্মঃ জাগরণের জন্য, শম্ভলধামে -কালনা হইতে ত্রিবেণী, বঙ্গভূমি, ভারতবর্ষ, --- শ্রীশ্রীকাল্কিশ্বর ধাম সত্যক্ষেত্রের স্বাধীষ্ঠান হইতে মহাবেদ ব্রহ্মসূত্রঃ এবং শ্রীশ্রীকাল্কির নিত্যমন্ত্রঃ নাম গান প্রকাশ করছেন, শ্রীশ্রীকাল্কি মহাঋষি মালোবাবা। _____ 'মহাবেদ' ব্রহ্মনামঃ বন্দে মালোবাবায়ং.... বলও...বন্দে মালোবাবায়ং ... বন্দে মালোবাবায়ং .... ------------------- ------------------- ইতি শ্রীশ্রীকাল্কি শ্রীমদ ভগবৎ গীতা দ্বিতীয় অধ্যায় 'শ্রীশ্রীকাল্কি সাংখ্যযোগ' নামঃ পঞ্চম শ্লোকঃ 'শান্তাতাপস সংবাদ ' 'শ্রীশ্রীকাল্কি সাংখ্যযোগ' ২.৫