
হায় রে টাকা এইটা কোনো কথা হইল? টাকা চাইলাম— কহিলেন, “দিমু।” আকাশ ভাঙিয়া বৃষ্টি নামিল, ঝমঝম, রিমঝিম, নিরবধি। ভাবিলাম, বোধ হয় বৃষ্টির জলে ভাসিয়া প্রতিশ্রুতির নৌকাও আইতেছে। আবার মনে করাইলাম— কহিলেন, “দিমু।” তারপর দিন গেল, রাত গেল, ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো নিঃশব্দে বুড়ো হইল; শুধু সেই একটি শব্দ— “দিমু”— সময়ের দেয়ালে ঝুলাইয়া রইল। টাকা তো আসিল না। টাকা আসলে হাতের ময়লাই বটে— কিন্তু সেই ময়লাই সময়মতো না মিলিলে, জীবনের সাদা কাগজ কয়লার দাগে ভরিয়া যায়। মানুষ তখন টাকার জন্য কাঁদে না, কাঁদে ভাঙা কথার জন্য; অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়ার জন্য, অবিশ্বাসের জন্মের জন্য। হায় রে টাকা, তুমি কি সত্যিই হাতের ময়লা? নাকি মানুষের চরিত্র মাপিবার সবচেয়ে কঠিন আয়না? তুমি যখন থাকো, সবাই বলে—তুচ্ছ। তুমি যখন থাকো না, তখনই বুঝি, কত সম্পর্কের ভিত তোমার নীরব উপস্থিতিতেই দাঁড়াইয়া ছিল। হায় রে টাকা, তুমি কেমন খেলা খেলো! কেউ তোমারে জমায়, কেউ তোমারে বিলায়, আর কেউ— একটি “দিমু” শব্দের ভরসায় অপেক্ষা করিতে করিতে একদিন নিজেরই বিশ্বাস হারায়।

